গর্ভাবস্থায় মাথা ঘোরা বলতে কারও মাথা হালকা লাগা, চোখে অন্ধকার দেখা বা অজ্ঞান হওয়ার ভাব বোঝায়; আবার কারও চারপাশ ঘোরার মতো ভার্টিগো হতে পারে। লক্ষণের ধরন, কখন শুরু হয়েছে এবং সঙ্গে অন্য কোনো সমস্যা আছে কি না—এসব না জেনে কারণ নিশ্চিত করা যায় না।
কেন হতে পারে
গর্ভাবস্থার স্বাভাবিক পরিবর্তন, দীর্ঘ সময় না খাওয়া, বমি বা কম তরল গ্রহণ, রক্তাল্পতা, হঠাৎ উঠে দাঁড়ানো, কিছু ওষুধ, মাইগ্রেন অথবা কানের ব্যালান্সের সমস্যায় মাথা ঘুরতে পারে। একই লক্ষণ কখনও গর্ভাবস্থা-সম্পর্কিত বা অন্য জরুরি সমস্যার সঙ্গেও দেখা দিতে পারে। তাই শুধু অনলাইন লক্ষণতালিকা দেখে কারণ ঠিক করবেন না।
মাথা ঘুরলে নিরাপদ প্রথম পদক্ষেপ
- পড়ে যাওয়া এড়াতে সঙ্গে সঙ্গে বসুন বা কাত হয়ে শুয়ে পড়ুন এবং প্রয়োজনে কাউকে ডাকুন।
- লক্ষণ থাকা অবস্থায় গাড়ি চালাবেন না, সিঁড়ি বা উঁচু জায়গায় উঠবেন না এবং একা গোসল করবেন না।
- আপনার প্রসূতি চিকিৎসকের দেওয়া খাদ্য ও তরল-সংক্রান্ত পরামর্শ মেনে চলুন। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি বা হৃদ্রোগের জন্য কোনো নিষেধ থাকলে সাধারণ অনলাইন পরামর্শ অনুসরণ করবেন না।
- গর্ভাবস্থায় কোনো ওষুধ, সাপ্লিমেন্ট বা পুরোনো প্রেসক্রিপশন নিজের সিদ্ধান্তে শুরু, বন্ধ বা পরিবর্তন করবেন না।
কখন জরুরি সাহায্য নেবেন
মাথা ঘোরার সঙ্গে নিচের কোনো লক্ষণ থাকলে আপনার প্রসূতি-সেবা দল বা জরুরি বিভাগে দ্রুত যোগাযোগ করুন:
- অজ্ঞান হওয়া, বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা নতুন অনিয়মিত/খুব দ্রুত হৃদ্স্পন্দন;
- তীব্র বা নতুন মাথাব্যথা, দৃষ্টি ঝাপসা/আলো ঝলক দেখা, মুখ বা হাত হঠাৎ বেশি ফুলে যাওয়া;
- যোনিপথে রক্তপাত, তীব্র পেটব্যথা, জ্বর বা তরল রাখতে না পারার মতো বমি;
- মুখ বেঁকে যাওয়া, এক পাশে দুর্বলতা বা অসাড়তা, কথা জড়িয়ে যাওয়া, নতুন ডাবল ভিশন, বিভ্রান্তি বা দাঁড়াতে/হাঁটতে না পারা;
- শিশুর নড়াচড়া সাধারণের তুলনায় কম মনে হওয়া—যে পর্যায়ে নড়াচড়া নিয়মিত অনুভূত হয়।
জরুরি লক্ষণ থাকলে নিজে গাড়ি চালাবেন না। ভারতে স্থানীয় জরুরি পরিষেবা, যেমন 108, অথবা নিকটস্থ হাসপাতালের সাহায্য নিন।
ঘোরার মতো ভার্টিগো হলে
বিছানায় পাশ ফিরলে বা মাথার অবস্থান বদলালে অল্প সময়ের জন্য চারপাশ ঘোরা BPPV-র সঙ্গে মিলতে পারে, কিন্তু পরীক্ষার আগে তা নিশ্চিত নয়। গর্ভাবস্থায় অনলাইন ভিডিও দেখে নিজে থেকে পজিশনাল টেস্ট বা ম্যানুভার করবেন না। প্রশিক্ষিত চিকিৎসক রোগনির্ণয় করে, গর্ভাবস্থার অবস্থা ও অন্যান্য ঝুঁকি বিবেচনা করে উপযুক্ত ব্যবস্থা ঠিক করবেন।
চিকিৎসক কীভাবে মূল্যায়ন করেন
চিকিৎসক লক্ষণের সময় ও ট্রিগার, রক্তচাপ, ওষুধ, বমি/খাদ্য গ্রহণ, শ্রবণ বা স্নায়বিক লক্ষণ এবং প্রসূতি-সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করেন। রক্তপরীক্ষা, কানের পরীক্ষা, ব্যালান্স পরীক্ষা বা অন্য পরীক্ষা সবার জন্য এক নয়; ব্যক্তিগত মূল্যায়নের পর যা দরকার শুধু সেটিই করা হয়।
ক্লিনিক্যাল উৎস ও সীমা
ACOG-এর জরুরি মাতৃ সতর্কতার লক্ষণ গর্ভাবস্থায় অজ্ঞান হওয়া, শ্বাসকষ্ট, তীব্র মাথাব্যথা, দৃষ্টির পরিবর্তন, রক্তপাত এবং শিশুর নড়াচড়া কমে যাওয়ার মতো লক্ষণে দ্রুত চিকিৎসা নিতে বলে। এই তালিকা রোগনির্ণয় করে না।
AAO-HNS-এর BPPV ক্লিনিক্যাল গাইডলাইন সঠিক পজিশনাল পরীক্ষা ও ক্যানালিথ-রিপজিশনিং চিকিৎসাকে সমর্থন করে। গর্ভাবস্থায় কোন পরীক্ষা বা ম্যানুভার উপযুক্ত হবে, তা ব্যক্তিগত ক্লিনিক্যাল মূল্যায়নেই ঠিক করতে হবে।
মেডিক্যাল ডিসক্লেইমার: এই লেখা সাধারণ রোগী-শিক্ষার জন্য। এটি ব্যক্তিগত রোগনির্ণয়, প্রসূতি পরামর্শ, ওষুধের সিদ্ধান্ত বা জরুরি চিকিৎসার বিকল্প নয়।
Read next — from Dr. Porwal's vertigo library

